শহীদ মিনার ভাঙার ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় আকারে নতুন শহীদ মিনার তৈরি করায় পুরোনো মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি শহীদ মিনার ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যম সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এমন সব শিরোনামে উপস্থাপন করা হয়েছে যেগুলোতে মনে হয়েছে, সহিংস কারণে শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভিডিওটি সহ কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘Sahadat Russell’ নামক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “ভাঙো ইতিহাস, চুকাও রক্তের দাম আমরা তো চিনি হায়েনা তুমি জুলাই মেধাবী তোমার নাম”। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি বিভ্রান্তিকর। সহিংস কোনো কারণে নয় বরং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বড় আকারে নতুন একটি শহীদ মিনার তৈরি করার ফলে পুরোনো মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়।
ভিডিওটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচ্য শহীদ মিনারের পাশে আরেকটি শহীদ মিনার রয়েছে। ভিডিওটির কি-ফ্রেমগুলোর একটি স্ক্রিনশট দেখুন--
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড সার্চ করে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম 'ঢাকা পোস্ট'-এর ইউটিউব চ্যানেলে "জানা গেল বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙার পেছনের রহস্য" শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার টিকারিবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হলে পাশে থাকা পুরোনো শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়। ছোট মাঠটিতে একইসাথে দুটি শহীদ মিনার থাকার ফলে খেলাধূলা করার জায়গা সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় পুরাতন শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুরাতন শহীদ মিনারটি ভাঙ্গার সময় নবম শ্রেণীর সাব্বির হোসেন ভিডিও ধারণ করে টিকটকে প্রকাশ করলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায় (সংক্ষেপিত)। ভিডিওটির প্রিভিউ দেখুন--
পরবর্তীতে সার্চ করে ক্ষুদে ভিডিওভিত্তিক সামাজিক মাধ্যম টিকটকে সাব্বিরের 'sabbir3_90' ইউজারনেম এর অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এতে শিক্ষার্থী সাব্বিরও একই কারণে শহীদ মিনারটি ভাঙ্গার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ভাইরাল হওয়া আলোচ্য ভিডিওটি তিনি টিকটকে প্রকাশ করেছিলেন।
টিকটকে সাব্বিরের ভিডিওতে নতুন শহীদ মিনারটি এবং পাশে ভাঙ্গার পরে পুরাতন শহীদ মিনারের অল্প কিছু নিদর্শন দেখা গেছে। যদিও তার টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রথম ভিডিওটি এখন আর পাওয়া যায়নি। টিকটক ভিডিওটির স্ক্রিনশটের কোলাজ দেখুন--
অর্থাৎ সহিংস কোনো কারণে নয় বরং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বড় আকারে নতুন একটি শহীদ মিনার তৈরি করার ফলে পুরানোটি ভেঙে ফেলা হয়।
উল্লেখ্য ভাঙার আগে পাশাপাশি অবস্থায় দুটি শহীদ মিনারের একসাথে তোলা ছবি পাওয়া যায় সামাজিক মাধ্যমে। ছবি সহ একটি পোস্টের স্ক্রিনশট দেখুন--
প্রসঙ্গত চলতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ডিগ্রি কলেজের শহীদ মিনার ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ডেইলি স্টারের এক সংবাদে বলা হয়েছে, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে কলেজের শিক্ষকরা এবং পরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা কলেজ চত্বরের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে বিকট শব্দ পাওয়ার পর কলেজের নৈশপ্রহরী শহীদ মিনারের কাছে গিয়ে দেখেন তিনটি স্তম্ভের দুটি ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
সুতরাং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন শহীদ মিনার তৈরি করার ফলে পুরাতন শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলার ভিডিওকে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।